যে সাতটি গাছ বিশ্বে সবচেয়ে পবিত্র বলে বিবেচিত
লাইফ টিভি 24
প্রকাশিত: ২১:৪৮ ১০ অক্টোবর ২০১৯
বিশ্বের অনেক ধর্মীয় বা আধ্যাত্মিক প্রথার গুরুত্বপূর্ণ অংশ গাছ। অনেক উদ্ভিদ রয়েছে যা শক্তিদায়ক, রোগমুক্তি এবং কখনো কখনো ঐশ্বরিক জগতের মাধ্যম হিসেবে দেখা হয়।
সংগীত শিল্পী জাহ্নবী হ্যারিসন এরকম সাতটি পবিত্র গাছের সম্মিলন ঘটিয়েছেন। যেখানে প্রাচ্যের পদ্মফুল থেকে শুরু করে পাশ্চাত্যের পুদিনা রয়েছে।
পবিত্র বলে বিবেচিত এসব উদ্ভিদের বিশেষত্ব কি? অতীতে মানুষ এ গাছগুলোকে যতটা আবশ্যক বলে মনে করতো, এখনো কি সেরকম ভাবে? এসব গাছের প্রভাবই বা কি? সবচেয়ে বড় কথা, এসব গাছের এত গুরুত্ব কেন?
সবচেয়ে পবিত্র বলে মনে করা হয়, এরকম সাতটি গাছ বা উদ্ভিদের অতীত ও বর্তমান বিশ্লেষণ করে সেই উত্তর খোঁজার চেষ্টা করা হলো:
১. পদ্ম ফুল
পদ্ম ফুল হচ্ছে এমন একটি উদ্ভিদ, যেটির একেক স্তরের পাঁপড়ি প্রাচ্যের ধর্মীয় শিক্ষা বা সংস্কারে বিভিন্ন অর্থ বহন করে। হিন্দুদের কাছে চমৎকার ফুলটি জীবন, উর্বরতা আর পবিত্রতার প্রতীক। ফুলটিকে পবিত্র বলে মনে করেন বৌদ্ধরাও। কাদা ও ময়লার ওপর জন্ম নেয়া এ সুন্দর ফুলটি যেন নির্লিপ্ততারও প্রতীক। যদিও এ উদ্ভিদের শেকড় কাদার ভেতর, কিন্তু ফুলটি পানির ওপরে ভেসে থাকে।
গল্পগাথাঁ প্রচলিত রয়েছে যে, ভগবান বিষ্ণুর নাভির ভেতর থেকে পদ্মের জন্ম আর ব্রক্ষ্মা এর কেন্দ্রে বসে থাকেন। অনেকে বিশ্বাস করেন, ঈশ্বরের হাত আর পা পদ্ম ফুলের মতো এবং তার চোখ ফুলের পাপড়ির মতো। ফুলের কুঁড়ি যেমন কোমল, ঈশ্বরের স্পর্শ আর দর্শনও সেরকম। হিন্দু ধর্মে বলা হয়, প্রত্যেক মানুষের মধ্যেই পদ্মের পবিত্র আত্মা রয়েছে।
২. মিসলটো
বর্তমানে মিসলটো ক্রিসমাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হিসেবে বিবেচিত হয়। কিন্তু প্রাচীন কেল্টিক ধর্মীয় নেতাদের ক্রিয়াকর্মে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান ছিল এ উদ্ভিদ। তারা বিশ্বাস করতো, সূর্য দেবতা টারানিসের সংস্পর্শ রয়েছে মিসলটোর মধ্যে। ফলে যে গাছে মিসলটো জন্ম নেবে বা যে ডালে সেটি ছড়াবে, সেটিও পবিত্র বলে বিবেচিত হবে।
শীতের সময় যখন সূর্য সবচেয়ে দূরে থাকে, সেদিন প্রধান ধর্মযাজক সাদা কাপড় পরে একটি সোনার কাস্তে দিয়ে ওক গাছ থেকে পবিত্র মিসলটো কেটে সংগ্রহ করতেন। এ বিশেষ গাছ এবং তার ফল ধর্মীয় ক্রিয়াকর্ম বা ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হতো।
তখন বিশ্বাস করা হতো যে এর জাদুকরী ক্ষমতা রয়েছে। মিসলটোর একটি অংশই রোগ সারাতে পারে, যেকোনো বিষের বিরুদ্ধে কাজ করতে পারে, মানব শরীরে উর্বরতা বৃদ্ধি করতে পারে এবং ডাইনির ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে পারে। তবে সত্যি কথা হলো, এটা পুরোটাই ভুল ধারণা। বরং পেটে গেলে মিসলটো বিষাক্ত হয়ে ওঠে।
৩. পেয়টে
পেয়টে হলো ছোট, কাণ্ডহীন এক প্রকার ক্যাকটাস। যেটি টেক্সাস ও মেক্সিকোর মরুভূমিতে জন্মে থাকে। সহস্রকাল ধরে প্রাচীন গোত্র বা আদিবাসী মানুষজন গাছটি তাদের ধর্মীয় কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করে আসছে। মেক্সিকোর হুইকোল ইন্ডিয়ান আর অনেক আদিবাসী আমেরিকান গোত্র বিশ্বাস করতো, পেয়টে একটি পবিত্র উদ্ভিদ যা তাদের ঈশ্বরের সঙ্গে যোগাযোগে সাহায্য করবে।
ধর্মীয় অনুষ্ঠানে এর ব্যবহার এক ধরণের মোহ বা আবেশ তৈরি করে। ফলে অনেকেই কল্পনা জগতে বা অলৌকিক জগতে বিচরণ করছেন বলে মনে করেন। তবে পেয়টের আধ্যাত্মিক ক্ষমতার ভক্ত শুধু আদিবাসী গোত্রের সদস্যরাই নন। পেয়টের এ মাদকতার কারণে সেটি ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলোর বাইরে শিল্পী, সংগীত শিল্পী আর লেখকদের কাছেও জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। বিশেষ করে ১৯৫০ সালের পর থেকে এ ক্যাকটাসটির খবর তারা পায়।
৪. তুলসী
হিন্দু ধর্মে বলা হয়, কৃষ্ণ ও তার ভক্তদের সেবা করার জন্য বৃন্দাবনের একজন অভিভাবক হিসেবে দেবী বিরিন্দাই তুলসী পাতা হিসেবে জন্ম নেন। আবার প্রাচীন গ্রন্থে বলা হয়, কৃষ্ণ নিজেই তাকে তুলসী আকারে গ্রহণ করেছেন।
ফলে যেখানেই গাছটির জন্ম হোক না কেন, সেটিকে পবিত্র বলে বিবেচিত বৃন্দাবনের মাটি বলেই মনে করা হয়। যেখানে এ গাছ প্রচুর পরিমাণে জন্মে থাকে। পৃথিবী জুড়ে লাখ লাখ হিন্দু তাদের প্রতিদিনের ধর্মীয় কর্মকাণ্ডে, মন্দিরে বা বাসায়, তুলসী গাছের পাতা ব্যবহার করেন।
৫. ইয়ু গাছ
সারাবছর ধরে সবুজ থাকে এমন একটি দেবদারু জাতের গাছ ইয়ু, যেটি হাজার বছর ধরে বেঁচে থাকতে পারে। অনেকেই গাছটিকে পুনর্জন্ম এবং অনন্ত জীবনের প্রতিচ্ছবি হিসেবে দেখেন। এর কারণ, এ গাছের ভেঙ্গে বা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া ডালপালা থেকে নতুন গাছের জন্ম হতে পারে।
এমনকি পুরনো গাছের গুঁড়োর ভেতর থেকেও নতুন একটি ইয়ু গাছের জন্ম হতে পারে। তাই অনেকে একে পুনর্জন্মের উদাহরণ হিসেবেও মনে করেন। খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের কাছে ইয়ু একটি প্রতীকী গাছ। মারা যাওয়া স্বজনদের কফিনে ইয়ু গাছের অঙ্কুর দেয়া হয়। অনেক চার্চের পাশে গাছটি দেখা যায়।
তবে খ্রিস্টান ধর্মেরও আগে থেকে অনেক আদিবাসী গোষ্ঠী গাছটিকে পূজা করে আসছে। তারা সেসব স্থানে তাদের প্রার্থনা কেন্দ্র নির্বাচন করতো, যেখানে আগে থেকেই ইয়ু গাছ রয়েছে।
৬. গাজা
রাস্তাফারি ধর্মীয় গোষ্ঠীর কাছে গাজার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। এ গোষ্ঠীর সদস্যরা বিশ্বাস করেন, বাইবেলে যে জীবনের গাছের কথা বলা হয়েছে, গাজা গাছ হচ্ছে সেই গাছ, এ কারণে এটি পবিত্র। যদিও গাজার অনেক নাম রয়েছে। তবে এ ধর্মের লোকজন এটিকে 'পবিত্র ভেষজ' বলে ডেকে থাকে।
যেমন বাইবেলের ২২:২ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, জাতিদের মুক্ত করার জন্যই এ ভেষজ। তারা মনে করে, এ ভেষজ তাদের ঈশ্বরের কাছাকাছি নিয়ে যায়। আর তাদের ভেতরের আধ্যাত্মিক শক্তিকে বাড়িয়ে দেয়। তাদের ভাষায়, এ জ্ঞান উদ্ভিদ অনেক রীতিনীতির সঙ্গে গ্রহণ করা হয়। সিগারেট বা পাইপের ভেতর ঢুকিয়ে এর ধোঁয়া নেয়ার সময় নানা ধর্মীয় আচার পালন করা হয়।
৭. পুদিনা
আমাদের পিৎজা বা পাস্তা সসে যে জিনিসটা সবচেয়ে আগে পাওয়া যাবে, তা হলো এ পুদিনা পাতা। কিন্তু অর্থোডক্স খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মধ্যে এবং গ্রীক চার্চে এটি একটি পবিত্র ভেষজ হিসেবে গণ্য করা হয়। পুদিনা ইংরেজি নাম 'বাসিল' এসেছে গ্রীক শব্দ 'রাজকীয়' থেকে। অর্থোডক্স খ্রিস্টানরা বিশ্বাস করেন, যেখানে যিশু খ্রিস্টের রক্ত পড়েছিল, সেখানেই গাছটির জন্ম হয়েছিল। এ কারণেই খ্রিস্ট ধর্মের অনেক অনুষ্ঠানে পুদিনা পাতার উপস্থিতি দেখা যায়।
পবিত্র পানি পরিশোধন করতে যাজকরা পুদিনা পাতার ব্যবহার করেন এবং ধর্মসভায় পুদিনা গাছ ভেজানো পানি ছিটানো হয়। চার্চের বিশেষ ধর্মীয় অনুষ্ঠানে ক্রসের সঙ্গে পুদিনা গাছ থাকে এবং ছোট ছোট ডালপালা হাতে হাতে দিয়ে দেয়া হয়। অনেকে এসব ডালপালা পানিতে ভিজিয়ে রাখেন, তাতে সেটি নতুন শেকড় ছাড়ে। যাতে পরে তারা সেগুলো আশীর্বাদ হিসেবে নিজেদের বাড়িতে লাগিয়ে রাখতে পারেন।
- বয়স্করা যেসব খাবার এড়িয়ে চলবেন
- বৈশ্বিক ক্ষুধা সূচকে ভারত-পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে বাংলাদেশ
- বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের সূচি পরিবর্তন
- ঢাকার বায়ুদূষণ দেশের জন্য লজ্জার বিষয়: প্রধানমন্ত্রী
- ‘বাংলাদেশ পথ দেখিয়েছে’, নেহার ভিডিও নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ বিজেপির
- প্রক্রিয়া শুরু
মালয়েশিয়ায় যেভাবে হবে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ - দীর্ঘ সময় ফোন ব্যবহারে চোখে জ্বালাপোড়া, সমাধান কী?
- ওষুধ কারখানার আগুনে ক্ষয়ক্ষতি হলেও প্রাণহানি নেই
- নোবেল পুরস্কারের ফেসবুক পেজে রবীন্দ্রনাথ ও রাসেলের ১১৪ বছরের চিঠি
- ক্যারিয়ার সেরা র্যাঙ্কিংয়ে হাসান মাহমুদ
- রাশিয়ায় নিয়ে যুদ্ধে পাঠানো ৩০ বাংলাদেশির ২০ জনের মৃত্যু
- অপারেশন ক্লিন হার্টের মতো অভিযানের পরিকল্পনা নেই
- দূষণজনিত মাথাব্যথা নাকি মাইগ্রেনের সমস্যা? বুঝবেন যেভাবে
- সমুদ্র তীরে দাঁড়িয়ে দৈত্যাকার দানব
- নিউটনের ঢের আগে মাধ্যাকর্ষণ শক্তির টের পান দা ভিঞ্চি!
- সেরা ঘুমের প্রতিযোগিতা, পুরস্কার ১৪ হাজার ডলার
- নাফ নদীতে ইয়াবা পাচারের ‘ডুবন্ত সাবমেরিন’ উদ্ধার
- বাংলাদেশ থেকে জয় ছিনিয়ে ড্র আফগানিস্তানের
- বন্ধুর চেয়ে শত্রুর নাম বেশি মনে থাকে কেন?
- সারাদেশে ২ দিন এলপিজি বিক্রি বন্ধ থাকবে
- অর্থনীতিতে নোবেল পেলেন রবার্ট ই হল ও মাইকেল উডফোর্ড
- বাংলাদেশসহ কয়েক দেশের শিক্ষার্থী ভর্তিতে কঠোর যুক্তরাজ্য
- বিধবা কার্ড দিলে সবার আগে এমপির বউ নেবে: হাসনাত আবদুল্লাহ
- মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে রেমিট্যান্স কমার শঙ্কা, নতুন শ্রমবাজারে নজর
- হঠাৎ চুল পড়া বাড়লে কি করবেন?
- একটি দৃশ্যের জন্য এখনো বারবার মহড়া দেন অমিতাভ
- জনগণের অর্থের প্রতিটি পয়সা জাতীয় স্বার্থে ব্যয়ের নির্দেশ
- স্ট্রোক, ডিমেনশিয়া ও বিষণ্নতা দূর করার ১৭ উপায়
- হ্যাটট্রিক করে ইতিহাসে হাসান মাহমুদ
- দুর্গাপূজা: বাঙালি হিন্দুদের বড় ধর্মীয় উৎসবে পরিণত যেভাবে
- সন্দেহের বশে বাংলাদেশি তকমা দিয়ে পুশইন নয়: কলকাতা হাইকোর্ট
- বিয়ের জন্য যেমন ছেলে চান মিমি
- `সিনেমা আমার পেশা, লাইফস্টাইল নয়`
নিজ জমিতে চাষ করতেন নানা পাটেকর - চলচ্চিত্রের এ শূণ্যতা পূরণ হবে কি?
ঝড় তোলা এক অনন্য নানা - চট্টগ্রাম বন্দর ১৫ বছর পরিচালনা করবে ডিপি ওয়ার্ল্ড, চুক্তি সই
- যেসব খাবার একসঙ্গে খেলে বেশি পুষ্টি মিলে
- পর্দার ‘ফাটাকেষ্ট’ এবার বাস্তবেই মন্ত্রীর মর্যাদায়
- বিমানবন্দরে ‘সোনার ডিম’ উদ্ধার: ৫ দিনের রিমান্ডে আসামি
- দাঁড়িয়ে পানি পান কি আসলেই ক্ষতিকর?
- রূপপুরের বিদ্যুৎ দ্রুত জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ: রোসাটম
- চুলকানি বেশিদিন থাকলে ৪ ধরনের রক্ত পরীক্ষা জরুরি
- ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনের প্রতীক বরাদ্দ
- শান্তিতে নোবেলজয়ী কে এই নাভি পিল্লাই
- মেসির বিদায়ী ম্যাচে চরম অপমান ও বঞ্চনার অভিযোগ বেনিনের
- হ্যাটট্রিক করে ইতিহাসে হাসান মাহমুদ
- দূষণজনিত মাথাব্যথা নাকি মাইগ্রেনের সমস্যা? বুঝবেন যেভাবে
- হঠাৎ চুল পড়া বাড়লে কি করবেন?
- দুর্গাপূজা: বাঙালি হিন্দুদের বড় ধর্মীয় উৎসবে পরিণত যেভাবে
- বন্ধুর চেয়ে শত্রুর নাম বেশি মনে থাকে কেন?
- একটি দৃশ্যের জন্য এখনো বারবার মহড়া দেন অমিতাভ

